যা করেছি বার্সার ভালোর জন্য

অনেক নাটকের পর দলবদলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বার্সেলোনায় থেকে গেছেন লিওনেল মেসি। গত মাসের শুরুতে গোল ডটকমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরেক মৌসুম বার্সায় থেকে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি প্রতারণার অভিযোগ তুলে ক্লাব সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউকে ধুয়ে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।

সেই সাক্ষাৎকারেই ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন মেসি। বলেছিলেন, তার ক্ষোভ বোর্ডের ওপর। ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা আগের মতোই আছে। তবু ক্লাবের প্রতি তার আনুগত্য ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

এভাবে তার ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার ব্যাপারটি মেনে নিতে পারেননি অনেক সমর্থক। তাদের আশ্বস্ত করতে এক মাস পর আরেক সাক্ষাৎকারে নতুন করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন বার্সেলোনা অধিনায়ক। মঙ্গলবার কাতালান ক্রীড়া দৈনিক স্পোর্তকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শান্তির পতাকা উড়িয়ে মেসি বলেছেন, তিনি যা করেছেন তা অনেকের কাছে ভুল মনে হতে পারে, তবে সবকিছুই তিনি করেছেন বার্সেলোনার ভালোর জন্য।

ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা বা সমর্থকদের কষ্ট দেয়ার কোনো অভিপ্রায় তার ছিল না বলে দাবি করলেন মেসি, ‘আমার দিক থেকে কোনো ভুল হয়ে থাকলে আমি তার পুরো দায়িত্ব নিচ্ছি। তবে যা করেছি তা বার্সেলোনাকে আরও ভালো ও শক্তিশালী করার জন্যই করেছি।

সমর্থকদের মনে কষ্ট দেয়ার কোনো ইচ্ছা আমার ছিল না। ক্লাবের সব সদস্য ও সমর্থকের উদ্দেশে আমার কিছু বলার আছে। যদি কখনও তাদের কেউ আমার কোনো কথায় বা কাজে আহত হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তারা এ নিয়ে নিঃসংশয় থাকতে পারেন যে, আমি যখনই যা করেছি সব সময় ক্লাবের সবচেয়ে ভালোটা চেয়েই করেছি।’

বর্তমান বার্সা বোর্ডের সঙ্গে তার দূরত্ব কখনই ঘোচার নয়। তবে এ নিয়ে আর জল ঘোলা করতে চান না মেসি। সব তিক্ততা পেছনে ফেলে নতুন মৌসুমের শুরুতে আশার বাণী শোনালেন বার্সা অধিনায়ক, ‘বোর্ডের সঙ্গে এত বেশি মতের অমিলের পর আমি চেয়েছিলাম সব কিছুর শেষ টেনে দিতে। কিন্তু এখন আমাদের সবাইকে এক হতে হবে, বুঝতে হবে এখনও সেরাটা আসতে পারে। রোমাঞ্চ ও প্রেরণার সঙ্গে প্যাশন যোগ হলেই শুধু আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারব। সেজন্য সব সময় আমাদের এক হয়ে থাকতে হবে এবং একই পথের পথিক হতে হবে।’

মেসি থেকে গেলেও তার প্রিয় বন্ধু লুইস সুয়ারেজ বার্সা ছেড়ে নাম লিখিয়েছেন আতলেতিকো মাদ্রিদে। সুয়ারেজকে যেভাবে ক্লাব ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে তা নিয়েও ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে বার্সা বোর্ডকে ধুয়ে দিয়েছিলেন মেসি। সাক্ষাৎকারে সেই পোস্টেরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড, ‘কঠিন সেই সময়ে যা মনে হয়েছে সেটাই বলেছি। অনেকে ভাবতে পারেন অন্য অনেক বিষয়ের মতো এ ক্ষেত্রেও আমি নীরব থাকতে পারতাম। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে অনেক বিষয়ই আমাকে আহত করেছে। সেটাই আমি এভাবে প্রকাশ করেছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *