নদী রক্ষায় নির্দেশনা–সুপারিশ অনেক, বাস্তবায়ন কম

নদী অসহায়। নদী রক্ষায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নদী উদ্ধারে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সুপারিশও কাজে আসছে না। নদীবিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা বলছেন, নির্দেশনা ও সুপারিশ বাস্তবায়নে বড় আকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই।

দেশের নদ-নদী অব্যাহতভাবে দখল হয়েছে, হচ্ছে। ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-নিরক্ষর, রাজনীতিক-ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি-সাধারণ মানুষ—সমাজের প্রায় সর্বস্তরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অবৈধভাবে নদী দখলের সঙ্গে যুক্ত। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ৪৮ জেলার অবৈধ দখলদারের ৪৯ হাজার ১৬২ জনের একটি তালিকা করেছে। দখলের কারণে অনেক নদী ভরাট হয়েছে, নাব্যতা হারিয়েছে। দখলের পাশাপাশি নদ-নদী ব্যাপকভাবে দূষণের শিকার। দূষণে নদীর পানি ও নদীনির্ভর প্রাণবৈচিত্র্য নষ্ট হয়েছে। দখল ও দূষণে দেশের অনেক নদী মৃত বা মৃতপ্রায়।

বিভিন্ন সময়ে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দখল ও দূষণ রোধে নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট হয়েছে। আদালত রায় ও নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে বছরের পর বছর পার হলেও দখলকারীদের নানা উদ্যোগে ও আইনি জটিলতায় নির্দেশনার পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।

আদালতের রায় ও নির্দেশনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নদী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আদালতের রায় বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার যদি সরকারের সঙ্গে যুদ্ধ করে, তা হলে নদী দখলমুক্ত হবে কীভাবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *