‘গ্যাসের কারণেই এত বড় বিস্ফোরণ এটা বলে পার পাওয়া যাবে না’

 ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি 

 ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩৪ পিএম 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে শুক্রবার রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন স্থানীয় এমপি শামীম ওসমান।

শনিবার দুপুর দেড়টায় শামীম ওসমান মসজিদটি পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি মসজিদের ভিতরে ঘুরে দেখেন।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নাই। এটা ছোট কোন জিনিস না। শুধু গ্যাসের কারণেই এত বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে এটা বলে পার পাওয়া যাবে না। কারণ এর আগেও আমাদের ওপরে ১৬ জুন বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সে কারণেই আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি কোন এক্সপার্ট না। আমি সে কারণেই এক্সপার্টদের দিয়ে তদন্তের কথা বলছি। এটা এসির বিস্ফোরণ কিনা সেটাও তদন্ত করা উচিত। তবে সচরাচর এসির গ্যাস সিলিন্ডার থাকে বাইরে। সেটা ভেতরে বিস্ফোরণের কথা না। তাছাড়া গ্যাসের কথা বলা হচ্ছে। যদি এতই গ্যাসের রিজার্ভ থাকতো তাহলে সেটা তো মাগরিবের সময়ে কিংবা এশার আগে দরজা খোলার কারণে বের হয়ে যেত।

তিনি বলেন, দয়া করে এ ঘটনায় কোন পারসেপশন তৈরি করবেন না। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি।

শুক্রবার রাতে এশার নামাজের সময় ওই মসজিদে একসঙ্গে ছয়টি এসি বিস্ফোরিত হয়ে অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি অগ্নিদগ্ধ হন। ইতোমধ্যে বিস্ফোরণের ঘটনায় মসজিদের মুয়াজ্জিন, স্কুলছাত্রসহ ১৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

ফায়ার সার্ভিসের নারায়ণগঞ্জের উপ সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আরেফিন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে মসজিদের তল দিয়ে গ্যাসের একটি পাইপ রয়েছে।

ওই পাইপের লিকেজ দিয়ে মসজিদে গ্যাস জমে যায়। এর মধ্যে এসি চলার কারণে মসজিদের ভিতরে সবগুলো জানালা ও দরজা টাইট করে বন্ধ ছিল। ফলে নির্গত গ্যাস বের হতে পারেনি। বিস্ফোরণের আগে কেউ হয়তো বাতি বা বিদ্যুতের কিছু জালানোর সময়ে স্পার্ক করে। সেই স্পার্ক থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে সেটার কারণে এসি ও বাইরের ট্রান্সফরমারেও আগুন ধরতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি হান্নান মিয়া নিজেও এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তিনি কয়েকদিন আগেও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে এ লাইন সংস্কারের কথা বলেছিলেন।

কিন্তু তিতাস তখন এ কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেয়ার কারণে লাইন মেরামত বা সংস্কার করেনি। ফলে লিকেজ দিয়ে অন্য দিনের মতই গ্যাস জমে যায় মসজিদে। আর এসি চালানোর ফলে বাতাস বের হতে না পারায় গ্যাস জমে যায়। আর সেই থেকেই মূলত দুর্ঘটনা ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *